Sunday, April 10, 2011

সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয়ের শঙ্করপুর

দৈনিক স্টেটসম্যান, রবিবার  ১০ই এপ্রিল ২০১১  

পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর থেকে পূর্ব মেদিনীপুরে বঙ্গপোসাগরের  সমুদ্রতট শঙ্করপুরে গিয়েছিলাম কালীপুজোর আগের দিন ।  অমাবস্যার ভরাকোটালের ঠিক পূর্ব মূহুর্তে পৌঁছেছিলাম আমরা । খড়গপুর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ । গাড়িতে যেতে সময় লাগে ঘন্টা তিনেক । কারণ বেশির ভাগ রাস্তাই গ্রামের মেঠো পথ । সকালে বেরিয়েছিলাম বেলা এগারোটায় । প্রথমে পেরোলাম গোপালি গ্রাম তারপর কাশীজোড়া, শংকরাচকের ভেতর দিয়ে বেনাপুর গ্রামে পৌঁছে লেবেল ক্রসিং পেরিয়ে ঊড়িষ্যার বালেশ্বর যাওয়ার বড় চওড়া রাস্তা ধরা হল । রাস্তার দুপাশে   সবুজ ধানক্ষেত যেন আমাদের জন্য সবুজ গালচে বিছিয়ে রেখেছিল  । কাঁচা আর পাকা দু'রকমের ধানের ফলনেই যেন পাগল হয়ে রয়েছে কার্তিকের বাংলা ।  কি জানি কেবলই মনে হতে লাগল মা দুর্গার  আগমনেই বুঝি   এবার বাংলার মাটির রঙে সবুজ আর হলুদ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে । এবার ঐ বালেশ্বর যাওয়ার পথ থেকেই আমরা ধরে নিলাম গোল্ডেন কোয়াড্রিল্যাটারালের দক্ষিণ অভিমুখী শাখাকে । তখন আরো গতিশীল হল আমাদের যাত্রাপথ । অচিরেই পৌঁছলাম বেলদা ।বেলদা থেকে এক্সপ্রেস ওয়েকে বিদায় জানিয়ে গ্রামের মেঠো পথের রুক্ষতা নিয়ে চলতে হল । এই স্ট্রেচটি খুব খারাপ । এবড়োখেবড়ো রাস্তা। গাড়ির স্পীড কমে গেল । কিছুক্ষণ পর পৌঁছলাম এগরা । তখন গাড়ির অডিওতে বেজে চলেছে "আমাকে আমার মত থাকতে দাও...."  যেন রূপসী বাংলার মনের গোপন কথাগুলো   । গ্রামগুলির চেহারা পশ্চিমবাংলার আর পাঁচটা গ্রামের মত । কালীপুজোর চাঁদার জুলুমের খপ্পরেও পড়লাম বার দুয়েক । এ জায়গাটায় ধানক্ষেতও যেমন আছে তেমনি আছে  ভরাবর্ষার পর খালের জলে ফুটে থাকা সার সার কচুরীপানা, শাপলা-শালুক।   সূর্য তখন মাথার ওপর থেকে সরে পশ্চিম আকাশের গায়ে । পূর্ব মেদিনীপুরের পাণিপারুল গ্রামে এলাম । সেখান থেকে রামনগর ।  চম্পানদীর ব্রিজ পেরিয়ে  ঢুকলাম শঙ্করপুরে । এখানে  মাটির রঙ লাল, জলের রঙ নীল । গাঢ় সবুজ ক্যাসুরিনা ঝাউবনের করিডোর দিয়ে প্রবেশ করলাম শঙ্করপুরের নির্জনতায়। কম ও বেশী সবরকম বাজেটের  সুন্দর সুন্দর হোটেল আছে ।  হোটেলে মালপত্র রেখেই বেরিয়ে পড়লাম সমুদ্রদর্শনে ।  যাবার সময় হোটেলে মাছ-ভাতের অর্ডার দিয়ে যাওয়া হল । শঙ্করপুরে এত সুস্বাদু ফ্রেস ওয়াটার বাগদা চিংড়ি পাওয়া যায় যে শুধু মাছ আর ভাত খেলেই পরিতৃপ্তি হয় আর হোটেলের রান্নাও খুব সুন্দর । সে কৃতিত্ত্ব বোধ করি মেদিনীপুর জেলার অভিজ্ঞ পাচকের । 
সাদাবালির চরে গিয়ে একলহমায় সমুদ্র তট দেখে মনে হল 
একটা বিকেল নেবে তুমি? 
দিতে পারি তবে, 
যার নোনা জলের সাদাফেনায় ছুটে আসা 
জলের ফোঁটার রঙ সাদা, 
যার সাদা উড়নি নোনতা স্বাদের, 
ঢেউয়ের পরে ঢেউয়ের আনাগোনায় 
আছড়ে পড়া বালির চরে আসর বসায় 
মুঠো মুঠো ঝিনুক, তারা মাছ, শঙ্কর মাছেরা, 
দলবেঁধে আসা বকের সারি উড়ে যায় 
ক্যাসুরিনার ফাঁক দিয়ে, 
খেয়ে যায় বাঁশপাতা মাছ সমুদ্রের তট থেকে, 
ঢেউ এসে নিয়ে যায় বিকেলের সূর্যাস্তের রং  । 
সব মনখারাপের দুপুরগুলো আছড়ে পড়ে সেই ঢেউতে । 
ক্লান্ত  সূর্য তখন আপন মনে রঙ ছড়িয়ে চলেছে পূর্ব মেদিনীপুরের পশ্চিম আকাশের গায়ে, রং ছড়াতে ছড়াতে অবসর নিতে চলেছে সেদিনের মত ।  বিশাল সমুদ্র তট ; কাছেই  দীঘার চেয়ে অনেক পরিষ্কার আর মন্দারমণির চেয়ে অনেক বেশি প্রাকৃতিক শংকরপুরের বিচ । সমুদ্রের জলে নেমে পা ভিজিয়ে জল আর স্থলের দৃশ্য উপভোগ করলে তো আর পেট ভরে না । তাই হোটেলে ফিরে সেই অর্ডার দেওয়া চিংড়িমাছ আর গরম ভাত খেয়ে নিয়েই আবার ফিরে এলাম বঙ্গোপসাগরের তটে ।  ঝিলিক দেওয়া জলের মধ্যে চকচক করা ঝিনুক ঝাঁকে মুক্তো খুঁজে বেড়াই আবার ।  ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যেবেলা । ছমছমে সমুদ্রতটে শুধু ঢেউয়ের গর্জন । কোটালের ভয়াবহতা জানি । জল ফুলতে থাকে ক্রমশ:  । তবুও যতক্ষণ সুয্যি র‌ইল আকাশের বুকে ততক্ষণ পা ডুবিয়ে জলখেলা হল । আমাদের সাথে ছিল একটি বছর চারেকের বাচ্ছা । সে তো জল থেকে উঠতেও চায় না । তাকে টেনে হিঁজড়ে তোলা হল তখন সমুদ্রতট অন্ধকার । সারসার মাছের নৌকা (ট্রলার)  তখন মাঝ দরিয়ায় যাচ্ছে জাল ফেলতে, অমাবস্যার কোটালে মাছের প্রাচুর্য্যকে উপেক্ষা না করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাড়ি দেয় তারা ।  ভোর রাতে নৌকাগুলি তীরে এসে নোঙর করে । জেলেরা তখন মাছ বোঝাই নৌকা থেকে মাছ গুলো বিক্রি করে বাজারিদের কাছে । দেওয়া নেওয়ার টানাপোড়েনে কত রকমের সামুদ্রিক মাছ পড়ে যায় প্রতিদিন সমুদ্রের বালিতে আর জল সরে গেলে সে গুলি পড়েই থাকে তেমনি করে শুকনো বালুকাবেলায় । ছোটদের নিয়ে গেলে তারা মজা পাবে । দেখে উপভোগ করবে কত স্টার ফিস, বাঁশপাতা মাছ, লম্বা লেজ ওয়ালা শংকর মাছ, গায়ে সাদা কালো টিপ ওয়ালা বোয়াল মাছের মত গড়নের নাম না জানা মাছ  আর সেই সাথে নানা রকমের ঝিনুক কুড়োনোর মজা আছে শংকরপুরে  । অন্ধকার ভোরে কত রকমের শাঁখ আসে ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে । আর সূর্যাস্তের সময় ঘন নীল আকাশের গায়ে লাল, কমলা গোলাপি আভা ছিটিয়ে সূর্য যখন অস্তে চলে তখন সাক্ষী হয়ে থাকে সেই অভিনব ক্যাসুরিনা ঝাউবন । আদি অনন্ত কাল ধরে দাঁড়িয়ে আছে তারা । প্রতিদিন সূর্যের এই অবসর নেওয়ার মূহুর্তে ঝাউবনে  পাখ-পাখালির ঘরে ফেরার  কলরব আর বালির চরে ঢেউয়ের আছড়ে পড়ার শব্দ,  নিঝুম নিসর্গকে নতুন করে পৌঁছে দেয় মনের আঙিনায় ।  সূর্যাস্তে শঙ্করপুর একরকম । আর সূর্যোদয়ে অন্য রকম ।  
রাতে হোটেলে ফিরে ছাদে গিয়ে আবার সমুদ্র, কালো সমুদ্র, শব্দমুখর সমুদ্রকে চুপিচুপি দেখে আসি ।  পরদিন ভোরে সাড়ে চারটের সময় এসে হাজির হ‌ই সমুদ্রের বালুকাবেলায় । অন্ধকার আকাশে উত্তরদিকে তখনো ধ্রুবতারা আর পশ্চিম আকাশে শুকতারা জ্বলজ্বল করছে । ঢেউয়ের আনাগোনা দেখি,  সমুদ্রের বুকে জন্ম নেয় নতুন ঢেউ আর তীরে এসে ভাঙে সেই ঢেউ । দেখতে দেখতে পুব আকাশের গায়ে রঙ ছেটাতে আসে প্রত্যূষের বালক সূর্য । আকাশ চিরে চিরে লাল, নীল, গোলাপী রঙের দাগ আর লুকোচুরি খেলতে খেলতে সেই আবীর রঙা আকাশের কোল থেকে উঁকি মারে সে । ধীরে ধীরে ওপরে ওঠে । শৈশব, কৈশোর পেরিয়ে যৌবনের দাপট দেখাবে বলে । তখন ঠিক পৌনে ছটা বাজে । অনেক সূর্যোদয় দেখেছি । শঙ্করপুরের নিরিবিলির সানরাইজ মনের ক্যানভাসে ধরে রাখতে পেরেছি ঠিক মত ।  পুজোর পর থেকেই উইকএন্ডে ভীড় হয়ে যায় শঙ্করপুরের সি বিচ পিকনিক পার্টির আক্রমণে । নষ্ট হয় এর ইকোফ্রেন্ডলি প্রাকৃতিক সম্পদ, দূষিত হয়ে যায় ঝাউবন আর পর্যাপ্ত প্লাস্টিকে পূর্ণ হয়ে যায় সমুদ্রতট।  তাই উইকের মাঝামাঝি কোনো এক সময়ে মাত্র চব্বিশটা ঘন্টা হাতে নিয়ে ঘুরে আসা যেতেই পারে শঙ্করপুর !

Tuesday, March 1, 2011

মহাভারতের হিড়িম্বার পূজিতা কালী

খড়গপুর থেকে ইন্দার পথে পুবদিকে গেলে পড়বে খড়্গেশ্বরের মন্দির ।  
সেখান থেকে আরো কিছুদূর গ্রামের পথ ধরে স্থানীয় মানুষদের জিগেস করতে করতে পৌঁছনো যায় হিড়িম্বেশ্বরী মন্দিরে  ।  

বড় বড় দীঘি পরিবেষ্টিত  ইন্দার এই  গ্রামটির নাম বামুনপাড়া । কথিত আছে মহাভারতে পঞ্চপান্ডবের অজ্ঞাতবাসের সময় ভীম ঘুরতে ঘুরতে  এসে স্থানীয় এক অনার্য নারী হিড়িম্বাকে বিবাহ করেন  ;এই আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলটির নাম ছিল " হিড়িম্বা ডাঙা "    এই অঞ্চলে হিড়িম্বার আরাধ্যা একটি অত্যন্ত জাগ্রত কালীমূর্ত্তি ছিল যা কালাপাহাড়ের অত্যাচারে,   কালের স্রোতে ভেসে যাওয়া এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল ।

এখনো গাছের নীচে সেই অতি প্রাচীন পাথরের মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় 

আর সেইখানেই বাংলার ১৩৭৫ সালে নতুন করে মন্দির স্থাপন করেন বামুনপাড়ার স্থানীয় মানুষ জন । মন্দিরের মধ্যে ধাতব কালীমূর্ত্তির পাশে শীতলার ও ধাতব মূর্ত্তি পূজো হয় ।  

Sunday, February 27, 2011

"খড়গপুর" নাম কেন হ'ল ?


খড়গপুর আইআইটি ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে উত্তর দিকে ৫ কিলোমিটার গেলে পড়বে ইন্দা বাজারের মোড় । সেখান থেকে পূবদিকে আরো খানিকটা গেলে পড়বে ইন্দা দুর্গা মন্দির আর তারপরই বাঁদিকে খড়গেশ্বরের শিব মন্দির । এই মন্দিরের নামেই এই জায়গার নাম খড়্গপুর । কারো মতে,   রাজা খড়্গসিংহ তৈরী করেছিলেন এই মন্দির । আবার কারো মতে বিষ্ণুপুরের রাজা খড়্গমল্ল ২০০ বছর আগে এই মন্দির তৈরী করেছিলেন ।


মন্দিরের অভ্যন্তরে  গর্ভগৃহে প্রোথিত  খড়্গেশ্বর শিবলিঙ্গ  । শিবরাত্রি, আর গাজনের সময উতসব হয় এখানে ।


মন্দির চত্বরে বহু প্রাচীন একটি অশ্বত্থ গাছের বেদীমূলে রয়েছে আদিবাসীদের আরাধ্যা কোনো দেবতার প্রস্তর মূর্ত্তি । দক্ষিণবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার এই অঞ্চলগুলি প্রধানত:আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা ছিল । তবে  এখন সূর্য দেব রূপে ইনি পূজিত হন ।
মন্দিরের নাট মন্দিরে এখন একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়েছে । স্থানীয় মানুষ জন আর মন্দিরের পুরোহিত বিদ্যালয়টি চালনা করেন । মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণও তাঁরাই করেন আর মন্দিরের মধ্যে অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে এই স্কুলটি করেছেন তাঁরা ।


জটাজুটো নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সেই বহু পুরোণো অশ্বত্থ বৃক্ষ আর বহন করছে সময়ের সাক্ষ্য ।


 পুরো মন্দিরটী তৈরী পাথর দিয়ে । কোনো ইঁট নেই এর গায়ে । এখন সাদা রঙ করা হয়েছে ।

Friday, February 18, 2011

ঘুরে এলাম পাথরা ও কর্ণগড়


১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০১১ । একটা ছুটির দিন ছিল । তার আগের দিন রাতে আমাদের আরো এক বন্ধুর সাথে হঠাতই প্ল্যান হ’ল বেরোনোর । ” একে তো ফাগুন মাস , দারুন এ সময় ” ! আর খড়গপুরে এসে অবধি আমরা  নেট সার্ফ করে চলেছি এর আশপাশ নিয়ে । সময় পেলেই বন্ধুরা মিলে আর এন্ড ডি করছি …ছুটির দিনের অপেক্ষা করছি । হঠাতই মিলে গেল আরো একটি ট্যুরিস্টস্পটের  । বাতাসে সজনে ফুলের গন্ধ আর পলাশের রঙ সঙ্গে করে বেরিয়ে পড়লাম আমরা চারজন মিলে..
মেদিনীপুর থেকে মাত্র দশ কিলোমিটার দূরে মন্দিরময়ে পাথরা গ্রামের ।


কংসাবতী (কাঁসাই) নদীর ধারে, মন্দিরের পর মন্দির রয়েছে পাথরায় । মন্দির, নাট মন্দির , কাছারিবাড়ি, রাসমঞ্চ, ঠাকুরদালান । পাশেই পাথরা গ্রাম । গ্রামের বাড়ি, পুকুর, ধানক্ষেত,  আলুর ক্ষেত,  সবজীর ক্ষেত, বাঁশঝাড় সবকিছুর মধ্যেই মন্দিরময় এই পাথরা ।  সবমিলিয়ে চৌত্রিশটি অসাধারণ সব মন্দির আছে ।  এগুলি প্রায় ২০০ বছরের পুরোণো ।


১৭৩২ সালে বাংলার নবাব আলিবর্দি খাঁ ঐ পাথরা গ্রামের  রত্নাচক পরগণার রাজস্ব আদায়ের জন্য বিদ্যাসুন্দর ঘোষাল নামে একজনকে নিযুক্ত করেন । ঐ বিদ্যাসুন্দর বাবু তাঁর নিজের শখে একের পর এক এইখানে মন্দির বানান । মন্দির গুলির ধ্বংসাবশেষ দেখলে মন খারাপ হয়ে যায় । সব শিবলিঙ্গের ভাঙা করুন অবস্থা ..




একটি এনজিও সংস্থা "পাথরা আর্কিওলজিকাল প্রিজার্ভেশন কমিটি",  আইআইটি খড়গপুরের সাথে সম্মিলিত ভাবে এই সুন্দর মন্দিরগুলির তত্ত্বাবধানে ব্রতী হয়েছে । মন্দিরের কারুকার্য পোড়ামাটির ইটের ; স্টাইলটা বিষ্ণুপুরের বাংলার  চালাঘরের মত আর অভিনব শিল্পশৈলি তার গায়ে ।



সেখান থেকে আরো কিছুটা গিয়ে হাতিওলকা গ্রাম পেরিয়ে গেলাম কর্ণগড় ।


পুরোণো গড় আজ আর নেই । নতুন মন্দির হয়েছে অনেকগুলি ।

সেইখানে মন্দিরের প্রসাদ খেয়ে দুপুরের মধ্যেই আবার ফিরে এলাম খড়গপুরে |

Wednesday, February 9, 2011

কুরুম্ভেরা দুর্গে কিছুক্ষণ !



এখন যে আই-আই-টি খড়গপুরকে আমরা দেখি প্রাক স্বাধীনতার যুগে সেখানে ছিল হিজলী জেল ।
আই-আই-টি ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে দক্ষিণদিকে যাত্রা করলে হিজলি ফরেস্ট শুরু হয় ।

শীতের রোববারের সকালে এই অরণ্যের হাত ধরে, কেশিয়াড়ি হয়ে ঘুরে আসা যায় ভসরাঘাট| সুবর্ণরেখা নদীর ধবধবে সাদা, মসৃণ ও রোদের আলোয় চিকচিকে বালির চরে হেঁটে নদীকে ছুঁয়ে দেখে আসা যেতেই পারে ।

নদী দেখে ফেরার পথে বেলদার রাস্তায় ২ কিলোমিটার গেলে পড়বে কুকাই গ্রাম । সেখান থেকে আরো ২ কিলোমিটার গেলে পড়বে গগনেশ্বর গ্রামে কুরুম্ভেরা দুর্গ । পুরাতাত্মিক মনুমেন্ট হিসেবে স্বীকৃত এই ফোর্টটি সত্যি সত্যি এখনো স্বমহিমায় তার রাজকীয়তা বজায় রেখেছে ।

পশ্চিম মেদিনীপুরে যে এত অভিনব একটি স্থাপত্য আছে তা হয়ত অনেকেরই জানা নেই ।

কোলকাতার অনতিদূরে এমন একটি জায়গা আছে । কোলকাতায় আছে অনেক সৃষ্টিশীল মানুষ । কিন্তু কোনারক আর খাজুরাহে হয় ডান্স ফেষ্টিভাল কিন্তু কুরুম্ভেরাতেও তো হতে পারে ! আমার এখানে গিয়ে কেবলই মনে হতে লাগল সে কথা । আমার মনের ক্যামেরায় ধরা র‌ইল সেই রাজকীয় দুর্গের ছবি !
 

Monday, January 17, 2011

মকরের মেলা



আজ দেখে এলাম খড়গপুর থেকে বেরিয়ে একটা ছোট্ট গ্রাম কাশীজোড়ায় মকর সংক্রান্তির মেলা । খড়গপুরের আইআইটি ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে প্রেমবাজারের পরই সালুয়া । সেখানে এয়ারফোর্সের বেস । ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলসের হেড কোয়ার্টার এই সালুয়া । সালুয়া ক্রস করে যখন ধানক্ষেতের পাশ দিয়ে চললাম তখন বিকেল সাড়ে চারটে । সূর্য তখন পশ্চিম মেদিনীপুরের পশ্চিম আকাশের কোলে ঢলে পড়েছে । মাইলের পর মাইল ধরে চলল অনাবাদী জমিও । ফসল নেই কোনো ।লালমাটির রাস্তা খুব চওড়া নয় । প্রত্যন্ত গ্রাম । আবার কিছুটা ধানজমি । ফসল উঠে গেছে পোষের পরবে । গ্রামের লোককে জিগেস করে করে পৌঁছে গেলাম কাশীজোড়া আর বেশ অনেকটা ধানক্ষেতের এবড়োথেবড়ো জমির ওপর মহা ধূমধামে বসেছে এই মকর সংক্রান্তির মেলা কুঝলাঝেঠি গ্রামের নাম । মেলার একপাশে মহাপুরুষ-থান অর্থাত সব দেবদেবীর মূর্ত্তি পূজো হয়েছে । আর নবান্নে ওঠা সদ্যপ্রসূত ধানগাছের গোড়ায় শুকনো মাটিতে বসেছে মেলা । সাতদিন ধরে চলে এই মেলা । জমজমাট মেলা প্রাঙ্গণ । একদিকে হচ্ছে তরজা গান । 

 অন্যদিকে খাবারদাবার । আর পাঁচমিশেলী হরেকরকম জিনিষপত্র বিক্রি হচ্ছে । আমি কিনলাম একটি ছোট্ট শিবলিঙ্গ । আর পাঁচটা মেলার মত লোহার সব জিনিষ, প্লাস্টিকের জিনিষ, খেলনা, বাসনকোসন তো আছেই । আর চোখে পড়ল দূর দূর গ্রাম থেকে পায়ে হেঁটে আসা সব মানুষ গুলো। কত আনন্দে ঘুরছে মেলায় । শীতের বিকেলে মা বাবার হাত ধরে কত কুচোরা বায়না ধরেছে এটাসেটা কেনার । 

ফেরার সময় দেখলাম গ্রামের মাটীর সব দোতলা বাড়ি । আর দেখলাম ধানের গোলা । ঢেঁকিও দেখলাম । কিন্তু খুব গরীব এই গ্রাম । ঠিক আর পাঁচটা বাংলার গ্রাম যেমন । বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া সর্বত্র একরকম গ্রাম । একধরণের মেলা । অনেকটা একই রকমের দেখতে মানুষগুলো ও । কেউ পায়ে হেঁটে মেলায় গেছে কেউ সাইকেলে ডাবল ক্যারি করে । কেউ আবার নতুন কাপড় ও পরেছে , কেউ বা একখানা নতুন চাদর । কোনো বাচ্চা মেয়ের মাথায় টুকটুকে লাল ফিতে আর তার মায়ের মাথায় একগাদা তেলমাখা সিঁথিতে টকটকে সিঁদুর । কিন্তু সূর্য ছিল একটাই ! পশ্চিম মেদিনীপুরের পশ্চিম আকাশে । একাই রঙ ছড়িয়ে চলেছে আপন মনে ....ঠিক যেমন ছড়ায় রোজ রোজ এই গ্রাম বাংলার আকাশে । মনে হল, এত দারিদ্রের মধ্যেও এদের মেলা বসে, এরা মকর সংক্রান্তি পালন করে ধূমধাম করে । সদ্য উঠেছে ধান তাদের ঘরে । কি জানি তাই বুঝি এত মজা তাদের ! 

Friday, November 12, 2010

শান্ত-স্নিগ্ধ শঙ্করপুরের সমুদ্রতটে











The Sandy Bay Hotel : Excellent place to stay when you are here



একটা বিকেল নেবে তুমি?
যার নোনা জলের সাদাফেনায় ছুটে আসা জলের ফোঁটার রঙ সাদা
যার সাদা উড়নি নোনতা স্বাদের ঢেউয়ের পরে ঢেউয়ের
আনাগোনায় আছড়ে পড়া বালির চরে আসর বসায়
মুঠো মুঠো ঝিনুক তারা মাছ, শঙ্কর মাছেরা,
দলবেঁধে আসা বকের সারি উড়ে যায় ক্যাসুরিনার ফাঁক দিয়ে,
খেয়ে যায় বাঁশপাতা মাছ সমুদ্রের তট থেকে,
ঢেউ এসে নিয়ে যায় বিকেলের সূর্যাস্তের রং ।
সব মনখারাপের দুপুরগুলো আছড়ে পড়ে সেই ঢেউতে ।
ক্লান্ত সূর্য তখন আপন মনে রঙ ছড়িয়ে চলে পশ্চিম আকাশের গায়ে,
রং ছড়াতে ছড়াতে অবসর নেয় ঠিক আমার মত
যখন আমার ইচ্ছেডানায় ভর করে সাগর-স্বপ্নেরা...